মোবাইল হ্যান্ডসেট তৈরি হতে যাচ্ছে দেশেই - TrickMela.com
Thursday , August 16 2018
Home / Technology / মোবাইল হ্যান্ডসেট তৈরি হতে যাচ্ছে দেশেই

মোবাইল হ্যান্ডসেট তৈরি হতে যাচ্ছে দেশেই

অবশেষে দেশে মোবাইল ফোন
হ্যান্ডসেট উৎপাদন ও সংযোজন
কারখানা স্থাপনের জন্য নির্দেশিকা
প্রস্তুত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা
বিটিআরসি। এ নির্দেশিকা অনুসারে
এ বিষয়ে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে
দুই ধরনের তালিকাভুক্তি সনদ
দেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান ‘এ’
ক্যাটাগরির তালিকাভুক্তি সনদ
পাবে, তাদের মানসম্মত লে-আউটের
মাধ্যমে নিজস্ব একটি টেস্টিং ল্যাব
থাকতে হবে। এসব ল্যাবে
প্রয়োজনীয় সব টেস্টিং
সুবিধাসম্পন্ন বিভিন্ন বিভাগ বা
শাখা থাকতে হবে। আর ‘বি’
ক্যাটাগরির তালিকাভুক্তি
সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর
নিজস্ব টেস্টিং ল্যাবের প্রয়োজন
হবে না। তবে তাদের ‘এ’ ক্যাটাগরির
সনদধারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে
চুক্তিবদ্ধ হতে হবে এবং সেই
চুক্তির মাধ্যমে তাদের মোবাইল
ফোন হ্যান্ডসেট উৎপাদন বা
সংযোজনের যাবতীয় টেস্ট সম্পন্ন
করাতে হবে। এ ছাড়া ‘বি’ ক্যাটাগরির
তালিকাভুক্তি সনদপ্রাপ্তরা
বিটিআরসির নির্ধারিত টেস্টিং
সুবিধা বা যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ নিজস্ব
ল্যাব স্থাপন করতে সক্ষম হলে
তারা তাদের সনদ ‘এ’ ক্যাটাগরিতে
উন্নীত করাতে পারবে।
বিটিআরসির এ খসড়া নির্দেশিকা
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সভায়
অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি
প্রশাসনিক অনুমোদন নিয়ে
শিগগিরই জারি করা হতে পারে। এ
ছাড়া সিদ্ধান্ত হয়েছে, এ বিষয়ে
বিটিআরসিতে তালিকাভুক্ত
প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ল্যাব স্থপনের
আগ পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে
প্রস্তুতকৃত হ্যান্ডসেটের ন্যূনতম ৫
শতাংশ পরিমাণ হ্যান্ডসেট
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো
টেস্টিং ল্যাব থেকে কারিগরি ও
গুণগত মান যাচাই করে তার সনদ
বিটিআরসিতে জমা দিতে হবে।
বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট একজন
কর্মকর্তা জানান, দেশে বর্তমানে
মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটের
বাজার প্রায় আট হাজার কোটি
টাকার।
প্রতিবছর আড়াই কোটি থেকে তিন
কোটি হ্যান্ডসেট আমদানি হচ্ছে।
অবৈধ পথে আসছে আরো ৫০ লাখ।
এর ফলে বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক
মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে। অথচ এই
হ্যান্ডসেট স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বা
সংযোজনের ব্যবস্থা হলে বৈদেশিক
মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশে নতুন
কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। তৈরি হবে
কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন সুদক্ষ
জনবল। বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে।
দেশের ক্রেতারা পাবে অপেক্ষাকৃত
কম মূল্যের স্মার্টফোন। একই
সঙ্গে বাড়বে ইন্টারনেট গ্রাহক,
দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নতি
ত্বরান্বিত করবে। এই বাস্তবতা
বিবেচনায় নিয়ে নির্দেশিকাটি
প্রস্তুত করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় আরো বলা হয়েছে,
দেশে প্রস্তুত হ্যান্ডসেট প্রান্তিক
পর্যায়ের গ্রাহকদের বিক্রয়োত্তর
সেবার মান নিশ্চিত করতে কমপক্ষে
ঢাকায় চারটি, চট্টগ্রামে তিনটি,
অন্যান্য বিভাগীয় শহরে দুটি এবং
সব জেলা শহরে একটি করে সার্ভিস
সেন্টার চালু করতে হবে। এ ছাড়া
গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনা করে
প্রযোজনীয়সংখ্যক কালেকশন
পয়েন্ট স্থাপন করতে হবে।
জানা যায়, এরই মধ্যে ওয়ালটন
ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
বাংলাদেশে মোবাইল ফোন
হ্যান্ডসেট তৈরির জন্য বিটিআরসির
কাছে ভেন্ডর লাইসেন্স চেয়ে
আবেদন করেছে। এ ছাড়া এসবি টেল
এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড (এ
প্রতিষ্ঠানের মোবাইল ফোন
হ্যান্ডসেট হচ্ছে সিম্ফনি) দেশে
হ্যান্ডসেট উৎপাদনের আগ্রহ
পোষণ করে এ বিষয়ে একটি
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং সহায়ক
নীতিমালা প্রণয়নে রাজস্ব বোর্ডকে
সুপারিশ করতে বিটিআরসিকে লিখিত
অনুরোধ জানিয়েছে। গত ৩ আগস্ট
মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর
সঙ্গে এসব বিষয়ে বিটিআরসির বৈঠক
ও তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ও এরই মধ্যে
স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন
হ্যান্ডসেট সংযোজন ও উৎপাদনের
জন্য যন্ত্রপাতি আমদানির এসকেডি
(সেমি নক ডাউন) পদ্ধতির ক্ষেত্রে
১০ শতাংশ এবং সিকেডি (কমপ্লিট
নক ডাউন) পদ্ধতির ক্ষেত্রে ১
শতাংশ আমদানি শুল্ক নির্ধারণ
করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর
আগে উভয় ক্ষেত্রে এ শুল্ক ছিল
৩৭.০৭ শতাংশ।
প্রসঙ্গত, মোবাইল ফোন
হ্যান্ডসেট আমদানিকারক
প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন
বিএমপিআইএর কর্মকর্তারা গত ৩
জুন এক সংবাদ সম্মেলনে
জানিয়েছিলেন, মোবাইল ফোনসেট
এখনো শতভাগ আমদানিনির্ভর।
বাংলাদেশে কোনো প্রতিষ্ঠান এখন
পর্যন্ত এটি স্থানীয়ভাবে সংযোজন
বা উৎপাদন করছে না। এ বিষয়ে
আরো প্রস্তুতি ও সময় দরকার।
দরকার স্বচ্ছ নীতিমালা ও
রোডম্যাপ। দক্ষ জনবলও দরকার।
প্রসঙ্গত, গত ১ জুন জাতীয় সংসদে
২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী
মোবাইল, ল্যাপটপ, আইপ্যাডের
স্থানীয় সংযোজন ও উৎপাদনকে
উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ খাতের
প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য
উপকরণ আমদানিতে প্রজ্ঞাপনের
মাধ্যমে শুল্ক রেয়াতি সুবিধা
প্রদানের প্রস্তাব করেন। অন্যদিকে
মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটের
আমদানি শুল্ক ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০
শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে করের আওতায় আনা হয়
ইন্টারনেট ব্যবহারের মোডেম বা
ডঙ্গলও।
এ পরিস্থিতিতে বিএমপিআইএর
কর্মকর্তারা ওই সংবাদ সম্মেলনে
মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটের
আমদানি শুল্ক বাড়ানোর
বিরোধিতা করে বলেন, এতে
স্মার্টফোনের মূল্য ভোক্তার
ক্রয়ক্ষমতার নাগালের বাইরে চলে
যাবে এবং বিষয়টি ডিজিটাল
বাংলাদেশর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধার
সৃষ্টি করবে। তাঁরা জানান, ভারতে
৭৬ শতাংশ মোবাইল ফোনসেট এরই
মধ্যে স্থানীয়ভাবে সংযোজন বা
উৎপাদন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে বেশ
কয়েকটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানও
স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোনসেট
উৎপাদনে আগ্রহী। কিন্তু স্বচ্ছ
নীতিমালা ও রোডম্যাপ ছাড়া তারা
তাদের কাজ শুরু করতে পারছে না।
এদিকে বিটিআরসির নিজেদের কাছে
আবেদন ও দেশে মোবাইল ফোন
হ্যান্ডসেট তৈরির ক্ষেত্রে বর্তমান
পরিস্থিতি সম্পর্কে এসবি টেল
এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও
বিএমপিআইএর সেক্রেটারি জাকারিয়া
শাহীদ গত সোমবার কালের কণ্ঠকে
বলেন, ‘নতুন ধরনের একটি শিল্প-
কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে নানা
ধরনের ঝুঁকি থাকে। এতে সফলতা
আসা পর্যন্ত সরকারকে প্রয়োজনীয়
সহযোগিতা করতে হবে। বিনিয়োগের
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ
বিষয়ে শুল্কনীতিও বিনিয়োগবান্ধব
হওয়া প্রয়োজন। মোবাইল ফোনে
কী ধরনের তরঙ্গ ব্যবহৃত হবে তা-ও
সুনির্দিষ্ট করতে হবে। এসব কারনেই
আমরা বিটিআরসিকে একটি
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং সহায়ক
নীতিমালা প্রণয়নে রাজস্ব বোর্ডকে
সুপারিশ করতে অনুরোধ জানিয়েছি।
’ তিনি বলেন, বর্তমানে মোবাইল
ফোন গ্রাহকদের মধ্যে মাত্র ৩০
শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহার করছে।
বাকি ৭০ শতাংশ ব্যবহার করছে
ফিচার ফোন। দেশে ফোরজি চালু
হলে স্মার্টফোনের চাহিদা আরো
বাড়বে। এ চাহিদা দেশের উৎপাদন বা
সংযোজন শিল্পের জন্য সহায়ক
হবে।

 

মোবাইল হ্যান্ডসেট তৈরি হতে যাচ্ছে দেশেই

Check Also

দেখে নিন আপনার হাতের স্যামস্যাংটি আসল নাকি নকল ১মিনিটেই – RM Tips Bangla

হেলো বন্ধুরা, কেমন আছো সবাই, আশাকরি সবাই ভালো আছো। আসলে ট্রিকমেলার সাথে থাকলে সবাই ভালোই …

Leave a Reply